
পুনর্মিলনী আয়োজনে শিক্ষার্থীদের আড্ডা
‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের সহপাঠী ও বন্ধুরা একত্র হয়েছি, এটা এক অসাধারণ অনুভূতি। এ উৎসবের আয়োজন হওয়ায় ক্যাম্পাসের বন্ধুরা জড়ো হওয়ার সুযোগ পেলাম।’ এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন সুদূর কানাডা থেকে ছুটে আসা নাসিম সাইদী। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি।
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ফরিদ আলম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে এসেছেন।
উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক স্মৃতি এ ক্যাম্পাসকে ঘিরে। এ রকম আয়োজন না হলে হয়তো এভাবে অনেকের সঙ্গে দেখা হতো না।’ শুধু নাসিম কিংবা ফরিদ নন, দেশ-বিদেশ থেকে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিলেন ক্যাম্পাসে। উপলক্ষ ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসব। ‘ক্যাম্পাসের সহপাঠীরা একত্র হয়েছি। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাস জীবনটা অসাধারণ ছিল! আবার সেই দিনগুলোয় ফিরে যেতে পারলে খুবই ভালো লাগত।’ এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানালেন তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ব্যাংক কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা।
মাহবুবে সোবহানী আল্লামা ও তাহমিনা আহমেদ দুজনই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও বন্ধু। এ উৎসবে তাঁরা সহপাঠী হিসেবে নন, এসেছেন দম্পতি হিসেবে। ‘দুই রকম অনুভূতি কাজ করছে। ক্যাম্পাসের দিনগুলোয় এক রকম আর আজ দম্পতি হিসেবে এসে অন্য রকম।’ বললেন এ সহপাঠী-দম্পতি।
পুনর্মিলনীর প্রথম দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে দুপুরে শুরু হয় স্বাগতপর্ব।
এতে অন্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, উপাচার্য মো. সালেহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষক সমিতির সভাপতি কবির হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, পুনর্মিলনী কমিটির সদস্যসচিব সুশান্ত দাশগুপ্ত, দ্বিতীয় ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক হারুন রশীদ, চতুর্থ ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দর্শকদের মাতিয়ে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন শিকড়, দিক থিয়েটার, মাভৈঃ আবৃত্তি সংসদ, থিয়েটার সাস্ট, আজ মুক্তমঞ্চ ও শিল্পী বারী সিদ্দিকী।
শীতের রাতের হিমেল হাওয়া আর এক আনন্দস্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে থাকেন একে একে। এর মধ্যে কোনো একজন গেয়ে ওঠেন আর অন্যরা সুর ধরেন ‘দেখা হবে বন্ধু কারণে অকারণে, দেখা হবে বন্ধু…।’
//প্রথম আলো//